কোলেস্টেরল কি এবং এর লক্ষণ কি এবং এটি নিয়ন্ত্রণের উপায় | What is Cholesterol in Bengali

কোলেস্টেরল কি এবং এর লক্ষণ কি এবং এটি নিয়ন্ত্রণের উপায় | What is Cholesterol in Bengali : আজকে আমরা কোলেস্টেরল বিষয়ে জানবো. আপনি যদি কোলেস্টেরল কি জানতে চান, তাহলে আমি সঠিক জায়গায় এসেছেন. এখানে আমরা কোলেস্টেরল সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেবো. তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক :-

কোলেস্টেরল কি – What is Cholesterol in Bengali

কোলেস্টেরল কি
কোলেস্টেরল কি

Liver থেকে প্রস্তুত এক ধরনের চর্বিজাতীয় মোমের মত বস্তুকে কোলেস্টরল বলা হয়। যেহেতু তা জলে দ্রবণীয় নয়, Cholesterol সাধারণত চর্বি (যা Lipid নামে পরিচিত) এবং প্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে থাকে যাকে একসঙ্গে Lipoprotein।শরীরে যকৃত থেকে চর্বি উৎপন্ন হয় যাকে কোলেস্টরল বা Lipid বলা হয়। শরীরে কোলেস্টরলের দৈনিক প্রয়োজনীয়তা খাদ্যতালিকায় থাকা ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত পদার্থ, এবং মাংস থেকে মিটে যায়.

শরীরে কোলেস্টেরল এর প্রয়োজনীয়তা – Needs of Cholesterol in Our Body in Bengali

শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কার্যপ্রণালির জন্য উপযুক্ত পরিমাণে Cholesterol জরুরি। Estrogen, Progesterone, Testosterone, Cortisol, এবং Aldosterone জাতীয় হরমোন উৎপাদনের জন্য এটি আবশ্যক। অধিকন্তু, পাচক লবণের (Bile Salt) মধ্যে কোলেস্টরল আছে যা প্রকৃতভাবে চর্বি হজম করতে কাজে লাগে শরীরে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজকর্মের জন্য.

যেমন Hormones, Vitamin D উৎপাদন, Vitamin A, D, E এবং K, জাতীয় চর্বিতে দ্রবণীয় ভাইটামিন শোষণের জন্য, এবং Cell গঠন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোলেস্টরল জরুরি শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কার্যপ্রণালির জন্য উপযুক্ত পরিমাণে কোলেস্টরল জরুরি। । তাছাড়া, এটি কোশের ঝিল্লির (Cell Membrane) গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং কোশের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে.

কোলেস্টেরল শরীরে কিভাবে ক্ষতি করে – How Cholesterol Harms Our Body in Bengali

সূর্যালোকের উপস্থিতিতে Cholesterol সাহায্যে শরীরে Vitamin D উৎপন্ন হয়। রক্তের মধ্যে প্রোটিনের (Lipoprotein) সঙ্গে কোলেস্টরল চলাচল করে। ভাল কোলেস্টরল (High Density Lipoprotein- HDL)  হার্টের সুরক্ষায় কাজ করে, যেখানে অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টরল (Low Density Lipoprotein- LDL) এবং Very Low Density Lipoprotein– VLDL) হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।শরীরের খারাপ কোলেস্টরল অতিরিক্ত থাকলে বুকে ব্যাথা বা Angina, হৃদরোগের আক্রমণ, স্ট্রোক এবং Diabetes হতে পারে।

শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ হল চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা, স্থূলত্ব এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাত্রা। রক্তে কোলেস্টরল বৃদ্ধি পেলে রক্তনালীর মধ্যে Plaque জমে এবং তা থেকে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ (Cardiovascular) দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, সিগারেট খাওয়া, এবং স্থূলত্ব হৃদরোগের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়। কোনও কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে বংশগত জিন কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ হয়।

জীবনশৈলীর পরিবর্তন, যেমন আদর্শ ওজন রাখা, ভাজা এবং চর্বিসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ সীমিত করা এবং ধূমপান ত্যাগ করা শরীরে Cholesterol মাত্রা বৃদ্ধি হতে দেয় না। অতিরিক্তভাবে কিছু ওষুধের সঙ্গে Statin জাতীয় ওষুধ একসঙ্গে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে কোলেস্টরলের মাত্রা কমে.

High Cholesterol হলে শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে ?

রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল যখন থাকে, এই কোলেস্টেলগুলো রক্তনালিতে জমাট বাঁধে। রক্তনালির একটি নির্দিষ্ট Diameter রয়েছে। যখন এটি জমা হয় রক্তনালির Diameter আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তনালির ভেতর তো রক্ত যায়। Cholesterol জমাট বাঁধলে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ রক্ত যাওয়ার কথা, সে পরিমাণ রক্তো যেতে পারবে না। এই রক্তের একটি কাজ রয়েছে। এই রক্ত আমাদের টিস্যুতে অক্সিজেন ও খাবার পরিবহন করে। এটি সব জায়গার টিস্যুতে। হার্টের রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমা হলে Heart ব্লক হয়ে যাবে। আরো সহজ করে বললে চর পড়বে।

আসলে রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে রক্তনালিতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়। Stroke এর মতো ঘটনা ঘটতে পার.Cholesterol এর মাত্রা বেশি থাকা একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা কারণ তা বহু রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষত হৃদরোগ এবং রক্ত সংবহণ সম্পর্কিত অসুস্থতা। রক্তে কোলেস্টরল মাত্রা বেশি থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত বা বুকে ব্যাথার সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন সম্পর্কিত অসুস্থতা যেমন Stroke বা সন্ন্যাস রোগ বাড়ে।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভারতে 25% থেকে 30%  শহরবাসী এবং নাগরিক জনসংখ্যার মধ্যে বেশি খারাপ কোলেস্টরল রয়েছে, যেখানে তা 15% থেকে 20%  গ্রামবাসীর মধ্যে রয়েছে। অধিকাংশ সময়ে ভারতীয় জনসংখ্যার মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের অধিক LDL এবং কম HDL-এর মাত্রা বর্ডারলাইনে এবং অধিক মাত্রায় Triglycerides আছে।

কোলেস্টেরল এর লক্ষণ – Symptoms of Cholesterol in Bengali

1. চোখের নীচে বা চোখের পাতায় সাদাটে বা হলদেটে ব্যথাহীন ফোলা অংশ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করান। এতে চোখের কোনও সমস্যা দেখা না দিলেও এটি রক্তে Cholesterol থাকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ.

2. কিছু দিন ধরে মাঝে মাঝে বুকে ব্যথা হচ্ছে, অথচ ECG রিপোর্টে তেমন কিছু সমস্যা খুঁজে পাননি? এমন হলে এক বার রক্ত পরীক্ষা করিয়ে দেখে নিন রক্তে কোলেস্টেরল প্রবেশ করেছে কি না। আসলে High Cholesterol থাকলে রক্তনালীতে Oxygen সরবরাহ কমে। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হৃদযন্ত্রে চাপ পড়ে বুকে ব্যথা হতে পারে.

3. কোলেস্টেরল জমলে মস্তিষ্কেও রক্ত সঞ্চালন কমে। এই কারণে ঘাড়ে ও মস্তিষ্কের পিছনের দিকে মাঝে মাঝে একটানা ব্যথা হয়.

4. শারীরিক পরিশ্রম করলে বা কোনও উদ্বেগের কারণে হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতেই পারে। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়া মাঝে মাঝেই কি হৃদগতি বেড়ে যায়। এমনটা হলে আর সময় নষ্ট না করে রক্ত পরীক্ষা করান। কোলেস্টেরল হৃদগতিকে বাড়িয়ে দ‌েয়.

5. খুব ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন তো, চোখের মণির চারপাশে ধূসর রঙের কোনও গোল দাগ দেখা যাচ্ছে? তা হলে জানবেন, তা চোখের সমস্যা নয়, বরং কোলেস্টেরলের কারণেই এমনটা হচ্ছে। তাই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কোলেস্টেরল এর চিকিৎসা – Treatment of High Cholesterol in Bengali

নিম্নলিখিত অবস্থায় বর্ধিত কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে ওষুধ প্রয়োগ জরুরি :-

  • যখন জীবনশৈলী এবং খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন করেও বর্ধিত কোলেস্টরলের মাত্রা কমান যায় না.
  • যাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অতীতে থাকলে.
  • খারাপ কোলেস্টরলের (LDL) মাত্রা বেশি থাকে.
  • 40-75 বছরের ব্যক্তি যাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে.
  • যাদের ডায়বিটিস অথবা হার্টের রোগ থাকে.

কোলেস্টেরল এর ঔষধ – Medicine of Cholesterol in Bengali

রক্তে বর্ধিত কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার বয়স, স্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আপনার চিকিৎসক আপনার জন্য নির্দিষ্ট ওষুধের পরামর্শ দেবেন। ওষুধের মধ্যে থাকে :-

১. বর্ধিত কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাধারণত Statin ব্যবহার করা হয়। যকৃতে কোলেস্টরলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় Statin.

২. যকৃতের ওপর  PCSK9 (Proprotein Convertase Subtilisin/Kexin Type 9) Inhibitors মত ওষুধ ভাল কাজ করে এবং রক্ত LDL  মুক্ত করতে যকৃতকে সাহায্য করে। রক্তে Triglycerides কমাতেও এই ওষুধ সাহায্য করে.

৩. Bile Acid Sequestrant (খাদ্যে গুণমান বাড়ায়) বাইল অ্যাসিডের ওপর প্রতিক্রিয়া করে রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়.

৪. Niacin (Vitamin B3 বা Nicotinic অ্যাসিড) LDL ( খারাপ কোলেস্টরল) কমায় এবং HDL ( ভাল কোলেস্টরল) বাড়ায়.

৫. Fibrates রক্ত খুব কম-ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (VLDL) থেকে মুক্ত করে। তারা HDL মাত্রাও বাড়ায়। যাই হোক, যখন Statin এর সঙ্গে একযোগে ব্যবহার হয় তখন ফাইব্রেটস পেশির সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে.

৬. খাদ্য থেকে কোলেস্টরল শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে Ajetimibe।

৭. যকৃত থেকে VLDL  কোলেস্টরল ক্ষরিত হয়ে রক্তে মিশতে বাধার সৃষ্টি করে Lomitapide এবং Myopomersen। জিনের কারণে যাঁদের শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি তাঁদের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়.

৮. শরীরের বাইরে একটি পরিষ্করণ যন্ত্র বসিয়ে রক্তকে খারাপ কোলেস্টরল মুক্ত করার পদ্ধতি হল Lipoprotein Apheresis। সাধারণত যাঁদের শরীরে বংশানুক্রমিকভাবে কোনও সমস্যার জন্য উচ্চ কোলেস্টরল মাত্রা থাকে তাঁদের জন্য এই চিকিৎসার ব্যবস্থাকরা হয়.

৯. এদের মধ্যে HDL ভালো কোলেস্টেরল, আর বাকি সব খারাপ কোলেস্টেল। সবচেয়ে খারাপ কোলেস্টেরল হলো HDL। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে বিভিন্ন সমস্যা হয়। রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে কী ক্ষতি হয়.

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কি কি খাদ্য গ্রহণ করবেন – What Foods to Take to Control Cholesterol in Bengali

শরীরে উপযুক্ত মাত্রায় কোলেস্টরল রাখার জন্য খাদ্য অভ্যাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হল:

১) জলপাইয়ের তেল এবং জলপাইয়ের তৈরি খাদ্য

Olive Oil বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে Mono-Unsaturated ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই। গবেষণায় দেখা গেছে, মনো-আনসেচুরেটেড Fatty Acids দেহের খারাপ কলেস্টেরল LDLকে কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল HDLকে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যদি কেউ দেহের ভালো কোলেস্টেরলকে বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরলকে কমাতে চায়, তার Olive Oil বা জলপাইয়ের তৈরি খাবার অবশ্যই খেতে হবে.

২) সবজি

বিভিন্ন ধরনের সবজি দেহের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ জাতীয় খাবার যেমন: শুষ্ক সোয়া প্রোডাক্ট, মটরশুটি, টফু ইত্যাদি.

৩) ননি ছাড়া দই এবং দুগ্ধজাত খাদ্য

যদি আপনি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে কমাতে চান, তাহলে ননিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিতে হবে। এর মানে এই নয় যে আপনি দুধের তৈরি খাবার খাবেন না। যদি দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়া হয় তবে Calcium, Minerals এ ধরনের প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে শরীর বঞ্চিত হবে। এগুলো মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।  দুধের তৈরি খাবার Osteoporosis বা হাড়ক্ষয় প্রতিরোধেও দারুণ সাহায্য করে.

৪) Anti-Oxidant-সম্বৃদ্ধ ফল ও সবজি

সব ধরনের সবজি ও ফল আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। বিশেষত যেসব সবজিতে Vitamin C ও Beta Carotene রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে.

৫) Vitamin C

ভিটামিন সি  রয়েছে সব ধরনের Citrus ফলে। যেমন : কমলা, গ্রেপফল, লেবু ইত্যাদি। সব ধরনের বেরি জাতীয় ফল। যেমন :- ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি  ইত্যাদি। পেয়ারা ও আমের মধ্যেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যাবেজ বা পাতাকপি পরিবারের খাবারেও আছে ভিটামিন সি। যেমন : সবুজ বা চায়নিজ পাতাকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি। ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস হচ্ছে মরিচ.

৬) Beta Carotene

গাঢ় হলুদ ফলে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। যেমন : আম, হলুদ পিচফল, কাঁঠাল ইত্যাদি। সবজির মধ্যে যেমন :- কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঠবাদাম, গাজর ইত্যাদির মধ্যেও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ ছাড়া গাঢ় সবুজ সবজি যেমন : ব্রকোলি, ইত্যাদি খেতে হবে শরীরে বিটা ক্যারোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য।  যদি আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় তবে অবশ্যই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এগুলো রাখতে হবে।

৭) রসুন এবং পেঁয়াজ 

সুস্বাস্থ্যের জন্য রসুন খাওয়ার  ইতিহাস বহু পুরোনো। গবেষকরা বলছেন, রসুন , পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ জাতীয় খাবার শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। তরকারি ও সালাদে আমরা এটি ব্যবহার করতে পারি। এগুলো বেশ  হৃৎপিণ্ড বান্ধব খাদ্য.

৮) অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবার

সব ধরনের অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবারে ভিটামিন বি ও মিনারেলস রয়েছে। এগুলো চর্বি ও কোলেস্টেরল কমায়। এ ধরনের খাদ্য যেমন :- রুটি, গম, ভুট্টা, ওটমিলস ইত্যাদি। Oats-এর মধ্যে রয়েছে High Soluble ফাইবার যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর.

৯) মাছ

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিনদিন অথবা এর বেশি সময় মাছ খায়, তাদের শরীরে খারাপ কলেস্টেরল কম থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপ এবং বিভিন্ন হৃদরোগে ভুগছেন তাদের জন্য মাছ খুব উপকারী। এর মধ্যে হাই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে.

১০) Omega-৩ Fatty Acid-জাতীয় খাদ্য

আগেই বলা হয়েছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে এই খাবার খাই না। এখন বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্যবহার করা হয়। শিমজাতীয় খাদ্য, ওয়ালনাট, জলপাই ইত্যাদির মধ্যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়.

এই খাবারগুলো নিয়মিত আপনার খাদ্য তালিকায় রেখে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন.

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কি কি জীবন শৈলী পরিবর্তন করবেন – Lifestyle Chenges to Control Cholesterol in Bengali

উচ্চ কোলেস্টরল মাত্রা ঠিক রাখার জন্য জীবনশৈলীর পরিবর্তন একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে. যেমন :-

১) লবন ও মদ্যপান

সীমিত মাত্রায় লবণ এবং কম মদ্যপান রক্তচাপ এবং রক্তে Triglycerides নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে.

২) শারীরিক কসরৎ

 নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম High কোলেস্টরল কমাতে এবং স্থূলত্ব নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে.

৩) ধূমপান করবেন না

কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করতে একেবারেই ধূমপান করবেন না.

৪) ওষুধের ব্যবহার

কার্যকরভাবে কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ গ্রহণ অব্যাহত রাখুন.

আমাদের শেষ কথা

তাই বন্ধুরা, আমি আশা করি আপনি অবশ্যই একটি Article পছন্দ করেছেন (কোলেস্টেরল কি এবং এর লক্ষণ কি এবং এটি নিয়ন্ত্রণের উপায় | What is Cholesterol in Bengali)। আমি সর্বদা এই কামনা করি যে আপনি সর্বদা সঠিক তথ্য পান। এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার যদি কোনও সন্দেহ থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই নীচে মন্তব্য করে আমাদের জানান। শেষ অবধি, যদি আপনি Article পছন্দ করেন (কোলেস্টেরল কি), তবে অবশ্যই Article টি সমস্ত Social Media Platforms এবং আপনার বন্ধুদের সাথে Share করুন।

Leave a Comment